মূসক-6.3

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্তৃক নির্ধারিত মূসক-৬.৩ হল মূল্য সংযোজিত কর (ভ্যাট) আদায়ের জন্য বাংলাদেশে ব্যবহৃত একটি প্রমিত চালানপত্র। এটি সরবরাহকারী ও গ্রাহক উভয়ের জন্যই আইনি ও কর সংক্রান্ত গুরুত্ব বহন করে।
ভ্যাট চালানপত্রের অর্থ হলো ক্রয়ের সপক্ষে রসিদ। ভ্যাটযোগ্য কোনো পণ্য বিক্রি বা সেবা প্রদান করতে হলে প্রতিটি বিক্রির সমর্থনে ভ্যাট চালানপত্র ইস্যু করতে হয়। মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২ এর ধারা ৫১ অনুযায়ী মূসক ৬.৩ ফরমে পণ্য/সেবা বিক্রয়ের সমর্থনে পণ্য/সেবার পরিমাণ, মূল্য ও মূসকের পরিমাণ উল্লেখ করে যে রশিদ বা ক্যাশমেমো দেয়, সেটিই হলো ভ্যাট চালানপত্র । মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বিধিমালা, ২০১৬ চালানপত্রের একটি ফরম্যাট রয়েছে, যাকে মূসক-৬.৩ বলে। প্রতিটি নিবন্ধিত করযোগ্য সরবরাহের উপর ভ্যাট প্রদেয় হওয়ার তারিখে বা তার আগে সরবরাহকারীকে ভ্যাট চালান ইস্যু করতে হয়।

নিবন্ধিত ব্যক্তির নাম

নিবন্ধিত ব্যক্তির বিআইএন নাম্বার

চালান পত্র ইস্যুর ঠিকানা

সাধারণত নিবন্ধনের মূসক ২.১ ফরমে আবেদন বা অনলাইনে আবেদন করার পরে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানকে আবেদন পরে মূসক 2.3 তে যে প্রতিষ্ঠানের নাম প্রতিষ্ঠান, ঠিকানা ও ও তের সংখ‌্যার এক‌টি বি আই এন থাকে । ঐগুলো এখানে লিখতে হয় । তবে এখানে একটি রাবার স্টামের সীল বা‌নি‌য়ে নি‌লে ভা‌লো হয় ।নিম্নে দুটি উদাহরণ দেওয়া হল

এখানে আপনি যার কাছে পণ্য বা সেবা বিক্রিয় করবেন তার নাম বা তার প্রতিষ্ঠানের নাম লিখতে হবে । বিধি ৪০ অনুযায়ী সরবরাহের মূল্য যদি ২৫ হাজার টাকার উপরে হয় তাহলে তার বি আই এন নম্বর অবশ্যই লাগবে বা লিখতে হবে ।

  • কলাম -১  কলাম :  এখানে সরবরাহের ক্রমিক নম্বর লিখতে হবে ।  যতগুলো পন্য হবে ততগুলো সিরিয়াল হবে ।
  • কলাম-২ দুই নম্বর কলামে পণ্যের নাম বা সেবা বর্ণনা  লিখতে হবে ।
  • কলাম -৩  সরবরাহ একক লিখতে হবে । যেমন কেজি , টন, রীম, লিটার  যে পণ্যের যেভাবে হয় তা লিখতে হবে
  • কলাম -৪  চার নম্বর কলামে পরিমান লিখতে হবে।যেমন :পণ্যটি কত কেজি, লিটার, টন এগুলো লিখতে হয় ।
  • কলামে -৫ ৫ নম্বর কলামে প্রতিটি  একক মূল্য লিখতে হবে ।  প্রতি কেজি, লিটার, টন এগুলোর
  • কলামে -৬ এ কলামে চার ও  পাঁচ গুণ করে যে মোট মূল্য (টাকায়)  পাওয়া যাবে তা লিখতে হবে
  •  কলামে -৭ এই কলামে যদি সম্পূরক শুল্ক থাকে তাহলে এ কলামে তার হার লিখতে হবে ।  সম্পূরক শুল্ক না তা না থাকলে ফাঁকা রাখতে হবে । 
  • কলামে -৮ এ কলামের  সম্পূরক  শুল্ক থাক‌লে তার টাকা পরিমাণ লিখতে হবে  ।
  • কলামে -৯ এই ঘরে মূল্য সংযোজন কর হার লিখতে হবে ।যে যে হারে পণ্য বা সেবা সরবরাহ করা হবে সে হার ।৫%,১০%,১৫% ইত্যাদি
  • কলামে -১০ এ ঘরের সংশ্লিষ্ট আইটেম এর মোট সরবরাহ পরিমাণ উপর মোট মূল্য সংযোজন কর এর পরিমাণ টাকায় লিখতে হবে ।যেমন-১০০ টাকার উপর ৫% হলে ৫ টাকা লিখতে হবে ।
  • কলামে -১১এ সকল প্রকার সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট সহ মোট মূল্য পরিমাণ লিখতে হবে ।(কলাম ৬+৮+১০)
  • নিন্মে তিনটি উদারণ দেওয়া হলো ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top